নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সোমবার
রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকায় পল্লবী পুরাতন থানার সামনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মো. রিফাত (২৮) নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রিফাত শরীয়তপুর জেলার নুরিয়া উপজেলার উত্তর শালদোর গ্রামের মো. সাগর মিয়ার ছেলে। তিনি মিরপুর-১২ এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে, ওয়াসার সামনের মাঠের পাশে অবৈধভাবে পার্ক করা বাসগুলোর ভেতর কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা বসে। সেখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলে। অপরিচিত পুরুষ-নারী দেখলেই তারা বাসের ভেতর বা অন্ধকার গলিতে টেনে নিয়ে ছুরি ঠেকিয়ে টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। কেউ প্রতিরোধ করলে তাকে ছুরিকাঘাত করে আহত বা হত্যা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়; প্রতি মাসেই একই ধরনের অপরাধ ঘটছে।
তাদের ভাষ্য, বিকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত ভোর ৫-৬টা পর্যন্ত চলে এই প্রকাশ্য অপরাধ। পল্লবী থানা পুলিশ জানে কোন এলাকায় অপরাধ হয়, কারা জড়িত, তবু সেই অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশি টহল দেখা যায় না। বরং টহল গাড়ি দেখা মেলে বিভিন্ন হোটেল, চায়ের দোকান বা মোড়ে। অপরাধ সংঘটিত এলাকায় কেন পুলিশ উপস্থিত হয় না, তা স্থানীয়দের কাছে “বোধগম্য নয়”।
পল্লবী থানার এক কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিত্য অপরাধের পরও পুলিশের নীরবতা ও কার্যকর পদক্ষেপহীনতা কি গ্যাং ও মাদকচক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে না?

















