NEWS, অন্যান্য, অর্থ ও বাণিজ্য, সারাদেশ

চরভদ্রাসনের পদ্মায় চলছে জাটকা ও রেনুপোনা ধ্বংশের  মহোৎসব।

%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a6%ad%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9b%e0%a7%87

নাজমুল হাসান নিরব,ফরিদপুর চরভদ্রাসন থেকেঃ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর জোয়ার মৌসুমে পানিতে ভেসে আসা মন মন জাটকা ইলিশ সহ রেণুপোনা অবাধে নীধন করে চলেছে দুর্বৃত্ত জেলেরা। প্রশাসনিক উদাসীনতা ও গাফিলতির কারনে গত ১৫ দিন ধরে উপজেলা পদ্মা নদীতে মশারী বেড় জাল, ছালা বেড়জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে চলছে জাটকা ইলশি সহ রেনুপোনা নীধনের মহোৎসব। যদিও দু’দিন আগে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জাটকা নীধনের বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনার পর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়। তবুও জাটকা সংরক্ষন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার পর্যন্ত উপজেলা পদ্মা নদীতে কোনো অভিযান পরিচালিত হয় নাই বলে জানা যায়।

 এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার জানান, “ পদ্মা নদীতে জাটকা রক্ষার জন্যে ক’দিন আগেই মৎস্য অফিসারকে প্রধান করে উপজেলার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্ত মৎস্য অফিসার কেন অভিযান করছেন না তা বুঝতে পারছি না”। আর বুধবার বিকেলে উপজেলা মৎস্য অফিসার মালিক তানভির আহাম্মেদ বলেন, “ বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততার কারনে পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করতে পারি নাই। তাছাড়া গভীর অন্ধকার রাতে অভিযান পরিচালনা করা খুব কষ্টকর বলেও তিনি জানান”। একই দিন উপজেলা পদ্মা নদীর অপর পারে চরমঈনট ঘাটের ভোর রাতের বিশাল মাছ বাজারের এক আড়ৎদার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “ পদ্মা নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে গত ১৫ দিন ধরে উক্ত মঈনট ঘাটের বাজারে প্রতিদিন নূন্যতম ১৫ লাখ টাকার জাটকা ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে। মশারী বেড়জাল দিয়ে আটককৃত এসব জাটকা ইলিশ উপজেলা সদরে বা আশপাশের বাজারগুলোতে না উঠিয়ে মাছ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকায় পাচার করছে বলেও সে জানায়”।

বুধবার দুপুরে পদ্মা পার এলাকা ঘুরে খোজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মা নদীর বুক জুড়ে প্রতিদিন বিশাল বিশাল মশারী বেড় জাল ফেলা হচ্ছে। প্রতিটি বেড়জাল প্রায় তিন কি.মি. জলমহল এলাকা ঘেরার পর জালের দুই দিক থেকে প্রায় ৩০ জন জেলে জাটকা ইলিশ ও রেনুপোনা সহ জালগুলো নৌকায় তুলে ফেলে। এসব মশারী জালে পানির মধ্যে থাকা মাছের ডিম ও রেনু সহ তোলে নীধন করা হচ্ছে। আটককৃত এসব জাটকা ইলশি ও রেনুপোনা ভোররাতে উপজেলা পদ্মা নদীর অপরপারে মঙইনট ঘাটের মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা পদ্মা নদীর জাটকা ইলিশ ও রেনুপোনা নীধনের এলাকাগুলো হলো-পদ্মা নদীর দিয়ারা গোপালপুর মৌজা, চর কল্যানপুর মৌজা, চর কালকিনিপুর, চর তাহেরপুর, চর মির্জাপুর, চর শালেপুর, উত্তর শালেপুর, ভাটি শালেপুর, চর হাজীগঞ্জ মৌজা, চর মোহনমিয়া, মাঝিকান্দি, চরহরিরামপুর, চর ঝাউকান্দা, চর হোসেনপুর, জাকেরের সুরা মৌজা, টিলারচর মৌজা, মাথাভাঙ্গা ও চর মঈনূট মৌজার বিশাল বিশাল জলমহলে দিন রাত চালানো হচ্ছে জাটকা নীধনের মহড়া।

আর উপজেলা পদ্মা নদীর অপর পারে চর মঈনট ঘাট এলাকায় মাছ বাজারে রয়েছে অন্তত: ২০টি আড়তদারী ব্যবসা। এসব আড়তের মাধ্যমে জাটকা ইলিশগুলো বেচাকেনা হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা যায়।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

6 + 6 =

বাংলাদেশ একাত্তর