NEWS, অন্যান্য, জনদুর্ভোগ, রাজধানী

মিরপুর সড়কের দূর্যোগপূর্ণ অবস্থা

%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%9c%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d

বাংলাদেশ একাত্তর(আফজাল হোসেন)

নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত হয়ে পড়েছেন রাজধানীর ব্যস্ত এলাকার একটি

মিরপুরের পলাশনগরের বাসিন্দারা অথচ শুরু থেকে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকাপলাশনগরে অপ্রশস্ত সরু রাস্তা, যত্রতত্র কলকারখানা, জলাবদ্ধতা, দূষণ, গ্যাস সংকট, অনুমোদনহীন ভবন মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা।

মিরপুর ১১ নম্বরের ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পলাশনগর এক সময় বিল অঞ্চল। আশির দশকের পর মাটি ভরাট করে বিল অঞ্চল মিরপুরের বর্ধিত অংশ হিসেবে গড়ে উঠেসে সময় মিরপুরসহ আশপাশের বাসিন্দারা এখানে বসতি গড়ে তোলে। অবশ্য নাগরিক সুযোগসুবিধা কম থাকায় সে সময় বেশি লোকজন ছিল না। সড়কের ধীরগতি কাজের কারনে বেহালদশায় পড়ে নাকাল এলাকাবাসি।

মিরপুর-১১, লালমাটিয়া হয়ে ট্রাক স্টান্ড যাওয়ার সড়কের বেহালদশা।

নব্বইয়ের দশকের পর অঞ্চলে লোকবসতি বাড়তে থাকেসরেজমিন দেখা যায়, লালমাটিয়া সড়কে ধীরগতি কাজ একদিন হলে তো দশদিন বন্ধ থাকে।

লালমাটিয়া হয়ে পলাশ নগর প্রবেশ পথের সড়কটি ভাঙাচুরা খানাখন্দে ভরা। সড়কটি পুরো পলাশনগরে এঁকেবেঁকে গেছে। বন্ধুর সড়কটির কোথাও ১০ ফিট বা কোথাও বারো ফিট। অপ্রশস্ত সড়কে পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলতে পারে না। মহল্লার ভেতর অলি গলির সরু কাঁচা রাস্তাগুলো যেন গ্রামের মেঠো পথএকবারে সরু এসব রাস্তায় হাঁটতে গেলে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পলাশনগর থেকে বাইশটেকি হয়ে মিরপুর ১৩ নম্বর যাওয়ার পথে একটি কালভার্ট পড়ে। কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্র্ণ। এটি চওড়া সংস্কার করা হলে অঞ্চলের মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে। এখানে বিল ভরাট করায় প্রচুর খালি জায়গা রয়েছেএসব জায়গা অল্প টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। শুরুতে দুএকটি ছোট কারখানা গড়ে উঠলেও বর্তমানে অঞ্চলে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি প্যাকেজিং কারখানা, ওয়াশিং প্লান্ট, ছোট বড় কম্পিউটার এমব্রয়ডারি, কারচুপি, চিপ, বিস্কুট, মশার কয়েলের কারখানা রয়েছেছোটবড় মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক কারখানা রয়েছে। কারখানার বর্জ্য এখানকার পরিবেশ দূষিত করছে। যত্রতত্র কারখানার বর্জ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

 

আবাসিক এলাকায় দিন দিন কারখানা বেড়েই চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়ে উদ্বিগ্নস্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম পল বলেন, পলাশনগরের সবচেয়ে বড় সমস্যা বিভিন্ন কলকারখানা। কম টাকায় খালি জায়গা ভাড়া পাওয়া যায় দেখে অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে বিভিন্ন কারখানা দিচ্ছেন। কারখানার ময়লাআবর্জনা এখানকার বিল খালে ফেলা হয়ময়লাআবর্জনায় এসব খালবিল ভরে গিয়ে মশার উপদ্রব বাড়ছে। সিটি কর্পোরেশন ঠিকমতো মশার ওষুধ ছিটায় না। হিট ডিজাইন কারখানার মালিক জাবেদ বলেন, এখানে অল্প টাকায় কারখানা ভাড়া পাওয়া যায়তাই আমি একটি আন্তর্জাতিক মানের কারখানা দিয়েছি। কোনো এক সময় দেখা যাবে এলাকায় বসবাসের কোনো জায়গা পাওয়া যাবে না। প্রতিটি ঘরই হবে এক একটি কারখানাজননী প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের কর্মকর্তা মুক্তারুল হক টোকন বলেন, এলাকায় ৭০ থেকে ৮০টি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানা রয়েছে। সবাই এক্সপোর্ট গার্মেন্টসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেজিংয়ের কাজ করে থাকেমিরপুরে যতগুলো গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি আছে সবগুলোর প্যাকেজিংয়ের কাজ এখানেই হয়। এখন আমাদের বড় সমস্যা বাইশটেকি খাল। বৃষ্টি হলেই খালের পানি উপচিয়ে আমাদের কারখানায় ঢুকে পড়ে। এতে আমাদের কাজ ব্যাহত হয় মালামালের ক্ষতি হয়পলাশনগরের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, বর্তমানে দেওয়ানপাড়া এলাকায় ব্রিজের কাজ চলছেসেখানে পানি অপসারণের জন্য সরু পাইপ দেয়া হয়েছে। সরু পাইপের কারণে বৃষ্টি হলে পানি অপসারণ হতে পারে না। তাই বৃষ্টি হলেই পলাশনগরে জলাবদ্ধতা হয়

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নু বলেন, পলাশনগরে আগে অনেক সমস্যা ছিল। বেশিরভাগ সমস্যারই সমাধান হয়েছেবাড়ির মালিকরা জায়গা ছাড়তে চায় না দেখে পলাশনগরের রাস্তা প্রশস্ত করা যাচ্ছে না। কিছু রাস্তার কাজ চলছে পলাশনগরের বাসিন্দারা যাতে পুরোপুরি নাগরিক সুবিধা পায় সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন বলে জানানঅথচ কিছু দিন আগেও আবদুর রউফ নান্নু”র বিরুদ্ধে একগাদা লিখিত অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন স্থানে। ফজলুল হক (চিস্তি)মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। অভিযোগে উল্লেখ থাকে নান্নু তার ক্ষমতা বলে পালিত ক্যাডার দিয়ে (শুক্রবার) বন্ধের দিন থাকাসত্বেও বিনা-নোটিশে জোরপুর্বক বসত-ভিটা ভেংঙ্গে সোজা রাস্তাকে বাকা করেছেন আবদুর রউফ নান্নু।

 

ডিএনসিসি অঞ্চল এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবির বলেন, পলাশনগর এলাকার রাস্তাগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন তাই সড়ক প্রশস্ত করা যাচ্ছে নাসিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কিছু সড়কে সংস্কার কাজ চলমান আরও কিছু সড়কে সংস্কার হবে। যদি বাড়ির মালিকরা রাস্তা ছেড়ে দেয় তাহলে রাস্তা বড় হবে। সেগুলো সংস্কার করে দেব

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

eight − six =

বাংলাদেশ একাত্তর