অন্যান্য, রাজধানী, সারাদেশ

মিরপুরে ১২০ ফুট সড়কটির ৬০ ফুট অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডের দখলে

%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a7%a7%e0%a7%a8%e0%a7%a6-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%9f-%e0%a6%b8%e0%a7%9c%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a7%ac%e0%a7%a6

আফজাল হোসেন

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর লালমাটিয়া থেকে কালশি পর্যন্ত সড়কটির একপাশ দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড।

খানাখন্দে ভরা ভাঙাচোরা এ সড়কে লালমাটিয়া, বাউনিয়াবাঁধ, পলাশনগর, আদর্শনগর ও এভিনিউ-৫’র বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে ইসিবি চত্বর দিয়ে মিরপুর সাড়ে এগারো-পুরবী পর্যন্ত যানবাহনও এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

মিরপুর সাড়ে এগারো-পুরবী সড়কে যানবাহনের সংকুলান না হলে এ সড়কটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সড়কটি দখলে চলে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন ৩ বছর ধরে এ স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিলেও তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বসুমতি পরিবহনের এক মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক গাড়ী রাতে চলে যে গাড়ীর কাগজ পত্র তো নাই সাথে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও। দূর্ঘটনা হলে তো ওদের খুজেও পাওয়া যায় না।এই ট্রাক ষ্ট্যান্ডের সভাপতি আবুল হোসেন  দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাড়ী গাড়ীর অঢেল সম্পত্তির মালিক তিনি। একটি বৈধ সংগঠনের সভাপতি কত বছর ধরে থাকে? নির্বাচন কি হয়? তার ইনকাম কি? খোজ খবর নিয়ে দেখেন, এদের কোন দূদক ধরে না। কুমিল্লা জেলার লোক হয়ে সে গোপালগঞ্জের পরিচয়েও চলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লালমাটিয়া টেম্পো স্ট্যান্ড থেকে উত্তর দিকে সড়কটিতে প্রবেশ করতে সারি সারি পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা ও ট্রাক থামিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন রয়েছে। ১২০ ফুট সড়কটির বাম পাশের লেন পুরোপুরি স্ট্যান্ডের দখলে রয়েছে। এর বিস্তৃতি কালশী পর্যন্ত। অন্য দিকে ডান পাশ লেনের সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির মাঝামাঝি অংশে ৪০-৫০ গজ জায়গাজুড়ে এত বড় গর্ত রয়েছে যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা রিকশা পড়ে গেলে টেনে তুলতে হয়।

ঢাকা আন্তঃজেলা ট্রাক ইউনিয়নের দারোয়ান আছমত আলী বলেন, ট্রাক সমিতির গ্যারেজের জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না বলে তারা পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা (হিউম্যান হলার), ট্রাক আপাতত এখানেই রাখছেন।

ঢাকা আন্তঃজেলা ট্রাক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমরা গ্যারেজেরে জন্য জায়গা খুঁজছি। জায়গা পেলে রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি রাখব না। আন্তঃজেলা ট্রাক সমিতির দেখাদেখি পুরো রাস্তায় রিকশা গ্যারেজ, দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোশেনের (ডিএনসিসি) ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রউফ ও তার ভাই লাভলু ট্রাক সমিতির সঙ্গে জড়িত। লাভলু ও আবুল হোসেন এ স্ট্যান্ড থেকে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কাউন্সিলরের অনুমতিতেই এ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। তবে কাউন্সিলর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কালশী রোডে অবস্থিত কালশী ইসলামিয়া হাই স্কুলের ছাত্রী রেশমা বলেন, কিছুদিন আগে লেগুনার ধাক্কায় আমার বান্ধবী আহত হয়েছেন। স্ট্যান্ডের বখাটেরা বাজে অঙ্গভঙ্গি করে। রাস্তার ওপরে এভাবে পিকআপ স্ট্যান্ড থাকলে আমরা কীভাবে চলাচল করব? স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার ওপর এভাবে গাড়ির স্ট্যান্ড এখানকার পরিবেশকে খারাপ করছে। স্ট্যান্ডে বখাটেদের আনাগোনা বেশি থাকার কারণে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির শিকার হতে হয়।

পথচারী লিটন মাহমুদ বলেন, একপাশে ভাঙাচোরা সড়ক, আর অপর পাশের সড়কে গাড়ির স্ট্যান্ড। লোকজন চলাচল করবে কীভাবে? বড় বড় লোড-আনলোডের গাড়ি এখানে রাখা হয়, চলাচল করে। এ কারণে রাস্তাটি ভেঙে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আরেক পথ চারি দুলাল বলেন, আমার মেয়ে ক্লাস ৯ম শ্রেনীতে পড়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে এই ট্রাক ও পিক-আপ ভ্যানের চিপা চাপা দিয়ে আমি ও আমার স্ত্রী প্রতিনিয়ত  দুশ্চিন্তায় কখন কি দুর্ঘটনা হয়।নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাউনিয়াবাঁধ বাড়ি কল্যাণ সমিতির এক সদস্য বলেন, প্রশাসন ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মদদে এ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ডিএনসিসি ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুর রউফ বলেন, আমি ট্রাক মালিক সমিতির সঙ্গে জড়িত নই। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি রাস্তাটি দখলমুক্ত রাখার জন্য। স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইনামুল কবির বলেন, কালশী-লালমাটিয়া সড়কটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সংস্কার করা হবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কালশী ট্রাফিক জোনের টিআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি কিছুদিন আগে এখানে এসেছি। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। এসি ম্যাডাম ভালো বলতে পারবেন। পল্লবী জোনের এসি (ট্রাফিক) সাইকা ইয়াসমিন পাশা বলেন, কালশীর স্ট্যান্ডটি আগে ১১ নম্বর বাস স্ট্যান্ডে ছিল। সেখানে যানজট লেগে থাকত বিধায় ২০১৬ সালে এটি এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে, জায়গা পেলে এখানে আর স্ট্যান্ড থাকবে না।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

3 × 1 =

বাংলাদেশ একাত্তর