জাতীয়

জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদল আসছে

%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0

বাংলাদেশ একাত্তর
জাতীয় নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত পদ না থাকলেও জনপ্রশাসনে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে আরেক দফায় পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে ১৬০ জন যুগ্ম সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হয়েছে।

জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে পদোন্নতি দিলে কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের স্বস্তি কাজ করবে। সরকার হয়তো এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্বাচনের আগ মুহূর্তে জনপ্রশাসনের মধ্যম স্তরের এই তিন পদে পদোন্নতি দিচ্ছে। অবশ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, এই পদোন্নতির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যাঁরা পদোন্নতির যোগ্য, তাঁদেরই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, এই দুই পদে পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে আরও সভার প্রয়োজন আছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রশাসনের আদর্শ কাঠামো হলো পিরামিডের মতো। নিচের দিকে কর্মকর্তা থাকবেন বেশি এবং ওপরের স্তরে সংখ্যা কমতে থাকবে। কিন্তু গত কয়েক বছরে পর্যাপ্ত পদ ছাড়াই ঢালাও পদোন্নতির ফলে জনপ্রশাসনের আদর্শ কাঠামো তো ভাঙছেই, উল্টো একধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কারণ, পদোন্নতি পেলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা পদোন্নতি পাওয়া পদে চাকরি করতে পারছেন না। কাজ করতে হচ্ছে এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুই স্তর নিচের পদে। এতে ব্যক্তি লাভবান হলেও পুরো জনপ্রশাসনের ক্ষতি হচ্ছে। এ জন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া উচিত পদ অনুযায়ী।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারে মোট কর্মকর্তা আছেন ৫ হাজার ৭০৪ জন। গত কয়েক বছরে মধ্যম স্তরের তিন পদ-উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা পদের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি হয়ে গেলেও এই তিন পদে একের পর এক পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। অথচ নিচের দিকে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (মাঠ পর্যায়ে এডিসি ও ইউএনও) ও সহকারী সচিব (মাঠ পর্যায়ে এসি ল্যান্ড ও সহকারী কমিশনার) তুলনামূলক কম। বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন এবং সহকারী সচিব আছেন ১ হাজার ১৫৫ জন। অবশ্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ৩৬ তম বিসিএসের মাধ্যমে পৌনে তিন শ কর্মকর্তা প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিচ্ছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের নিয়মিত (ডিউটি) পদ আছে ১২১টি। গত বুধবার রাতে ১৬০ জন যুগ্ম সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করায় এখন এই পদে কর্মকর্তা হয়েছেন ৬৩৪ জন। অর্থাৎ পদের চেয়ে এই পদে কর্মকর্তার সংখ্যা হয়ে গেছে পাঁচ গুণের বেশি। অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা এখন যুগ্ম সচিবের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে, যা অস্বাভাবিক।

যুগ্ম সচিবের নিয়মিত পদ আছে ৪৩০ টি। কিন্তু এই পদে কর্মকর্তা আছেন ৬১৮ জন। পদোন্নতির যে উদ্যোগ চলছে তাতে নতুন করে কমপক্ষে ২০০ কর্মকর্তার পদোন্নতি হলেও এই পদে কর্মকর্তার সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে যাবে। ফলে নির্ধারিত পদের চেয়ে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।

একই চিত্র হবে উপসচিবের ক্ষেত্রেও। এখন উপসচিবের নিয়মিত পদ আছে ১ হাজার ৬টি। এই পদের বিপরীতে গতকাল পর্যন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ১ হাজার ৭৫৭ জন। এখন এই পদেও পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মধ্যম স্তরে নির্ধারিত পদসংখ্যার অনেক বেশি কর্মকর্তা হওয়ায় গোটা প্রশাসনব্যবস্থা অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই পদ অনুযায়ী পদোন্নতি হওয়া উচিত।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

one × 5 =