বৃহস্পতিবার , ৪ জুলাই ২০১৯ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. শিল্প ও সাহিত্য

১১ পারার হাফেজ, ছোট্ট আব্দুল্লাহকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

প্রতিবেদক
bangladesh ekattor
জুলাই ৪, ২০১৯ ১২:৪২ অপরাহ্ণ

১১ পারার হাফেজ, ছোট্ট আব্দুল্লাহকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

 (বাংলাদেশ একাত্তর) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার জামিয়া আরাবিয়া মিফতাহুল উলুম (কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তান মাদরাসা) এর হিফজ বিভাগের মুস্তাফিজুর রহমানের ১০ বছরের ছাত্র হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ১১ পারা হেফজ করেছে। শিশু হাফেজ আব্দুল্লাহ বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রভূর নামে জিকির করছে। হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাসার ছাদের উপরে ১১ হাজার ভল্টের মিটারের কারেন্টের তারে তার হাত লেগে যায়। সর্ট খেয়ে পড়ে যায় সাইটে। জরুরী ভাবে  ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

হাসানের বাবা মুস্তাফিজ জানান, কারেন্টের আগুণে ওর শরীরের ২৪ % পুড়ে যায়। রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের এইচজিইউ এর ১নং বেডে দগ্ধাবস্থায় কাতরাচ্ছে হাসান। প্রতিদিন ওর পেছনে প্রায় ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বার্ন ইউনিটে থাকা অন্যান্য রোগীদের মাঝে হাসানের অবস্থা সবচেয়ে বেশি আশঙ্কজনক। দগ্ধ হাসানের চিকিৎসারত ডাক্তার জানিয়েছেন, বর্তমান অবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হতে হাসানের আরো ৫/৬ মাস সময় লাগবে। হাসানের বাবা মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের।

আগে পবিত্র উমরাহ পালন করেছেন তিনি। উমরা শেষে দেশে আসার পর তার আপন বড় ভাই অসুস্থ হলে তার পেছনেও প্রায় সোয়ালক্ষ টাকা খরচ করেন তিনি। এরপরও বাঁচাতে পারেননি ভাইকে। ভাইর শোক কেটে উঠতে না উঠতেই কলিজার টুকরা সন্তানের ঘটে গেলো করুণ দূর্ঘটনা। ওর পেছনেও ইতিমধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। এসবের পুরোটাই ঋণ করে চালাচ্ছেন তিনি।পূর্ণ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরো অনেক টাকার দরকার। এসব টাকার ব্যবস্থা তাহার নাই। কিছুই বলতে পারছেন না মধ্যম আয়ের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি জানান, হাসানের দূর্ঘটনার সময় শাশুড়ি (হাসানের নানি) থেকে দুবারে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। সেসব খরচ হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। এর পরেও অনেক টাকা ঋণ করেছেন তিনি।  অত্যন্ত সরল সোজা মনের মানুষ তিনি। তিনি খুবই আত্মমর্যাশীল মানুষ।

কখনো কারো বাড়িতে গিয়ে দুবেলা খাওয়ার রেকর্ড নেই তার। এলাকায় খুবই সম্মানি একজন মাওলানা সাহেব তিনি। কারো থেকে কখনো কিছু চেয়ে নেয়ার মানুষ তিনি নন। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বারবার। সবাই যেনো আমার শিশু সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, হাসান যখন থেকে কোল ছেড়েছে, তখন থেকে সতর খোলেনি কোনোদিন।বার্ন ইউটিটের বেডে এসেও মহিলা ডাক্তার চিকিৎসার স্বার্থে ওর সতর খুলতে গেলে খুব চিৎকার শুরু করেছিলো তারপর পুরুষ ডাক্তার এসে ওর চিকিৎসা শুরু করে। এমন লাজুক একটি ফুটফুটে শিশু হাসান। যে জীবনের কঠিন সময়ে এসেও ভুলে যায়নি সতর ঢেকে রাখার কথা।

এমন ভীষণ লাজুক কুরআনের এগারো পাড়া হাফেজের জীবন আজ সঙ্কটাপন্ন। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে বাবা সক্ষম না হলেও কারো কাছে অক্ষমতা প্রকাশ করতে নারাজ তিনি। সব মিলিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক বাবার হাফেজ সন্তানের জোড়ালো চিকিৎসা করা দরকার। ব্যয়ভার বহনে প্রয়োজন সমাজের বিত্তবানদের অংশগ্রহণ। তাহলে একের বোঝা দূর হয়ে যাবে। বেঁচে যাবে শিশু সন্তান হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। বিত্তবানরা দানের হাত প্রসারিত করলে সুচিকিৎসা শেষে কুরআনের বাগানে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে তারপক্ষে। হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আবার ফিরে আসুক কুরআনের ঘরে। তেলাওয়াত করুক সুমধুর সুরে। হৃদয় জুড়াক উস্তাদ, আত্মীয় প্রতিবেশিদের।

শিশু হাফেজের চিকিৎসায় এগিয়ে আসলে বেঁচে যেতে পারে একটি তরতাজা হাস্যমুখ। বাঁচতে পারে একটি কুরআনের পাখি। প্রিয় হাসান, তুমি বেঁচে ফিরে আসো কুরআনের বাগানে। নিষ্পাপ পাখিদের মাহফিলে। যোগাযোগ করতেহাফেজ মাওলানা আশরাফ বিন মুখতার হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর মামা। বিকাশ (পার্সোনাল) ০১৭১৯-৯৪৯৮৭৭

সর্বশেষ - সর্বশেষ সংবাদ