শুক্রবার , ১২ মে ২০২৩ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. শিল্প ও সাহিত্য

রূপনগরে যুবলীগ নেতাদের বিয়ে-সাদীতেও চাঁদা দিতে হয়

প্রতিবেদক
bangladesh ekattor
মে ১২, ২০২৩ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ একাত্তর: নিজেস্ব প্রতিবেদক;

প্রেম করে বিয়ে করেও চাঁদা দিতে হয় মিল্কভিটার দুধ সোহেলের অন্যতম সহযোগী দুলালসহ তার বাহিনীদের! এঘটনায় দুলাল সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে বিয়ে-সাদী ছাড়াও রূপনগর এলাকায় বাড়ী নির্মাণ, জমি কেনা-বেচা থেকে শুরু নতুন ব্যবসা করতে হলেও তাদের চাঁদা দিতেই হবে। না হলে চলে নির্যাতন হয়রানি। তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস রাখেনা কেউ। তবে এবার পল্লবী থানায় অভিযোগ বলেই ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার পাবে বলে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানিয়েছেন এই প্রতিবেদক কে।

জানাগেছে পল্লবী থানা এলাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন সজীব। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয়ের সুবাদে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে উঠে। পরবর্তীতে দুজন নতুন জীবন গড়ার লক্ষে বিয়ে করেন। এই বিয়ে করা জেনো তাদের উপর কাল হয়ে দাড়িয়েছে। ওই এলাকায় নতুন বিয়েসাদি হলেই যে চাঁদা দিতে হয় মিল্কভিটার কর্মচারী ও নামধারী যুবলীগ নেতা দুধ সোহেল ওরপে পিস্তল সোহেল বাহিনীর অন্যতম সহযোগী দুলালকে এটা নবদম্পতি জানতেননা। জানলে হয়তো তারা বিয়ে করতেননা।

নতুন স্ত্রীর সামনেই সোহেল রানার সন্ত্রাসী বাহিনী দুলাল সহ অন্যন্য সদস্যরা কিছুক্ষণ মারধর করে স্বামী-স্ত্রীকে। ভুক্তভোগীরা পরে জানতে পারে মিল্কভিটা এলাকায় বিয়ে করলে চাঁদা দিতে হয় যুবলীগ নেতাদের। পরে একপর্যায়ে ৩২ হাজার টাকার বিনিময়ে মারধর বন্ধ করে। নগদ ২ হাজার টাকা বাকি ৩০ হাজার স্বামী স্ত্রী গার্মেন্টসের বেতন পেয়ে দিবে এই মর্মে রেহাই মেলে।

এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার (১০ মে) পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে ভুক্তভোগী সজিব।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, যুবলীগের প্রোগ্রাম করা কিছু সন্ত্রাসী চাঁদার জন্য তাদের আটক করে মারধর করে। তার পকেটে থাকা ২ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার শর্তে তাদের রেহাই দেয়।

পল্লবী থানা সূত্রে মামলা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতোমধ্যে দুলাল (৩০), কাওসার (২৬) ও নাজমুল (২৮) নামে তিন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সজীবের করা জিডি থেকে জানা গেছে, গত ৪ মে রাত দশটার দিকে গার্মেন্টস থেকে বের হওয়ার পর তাকে ও তার স্ত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যায় দুলাল, কাওসার ও নাজমুল। মিল্কভিটা এলাকার সামনে একটি ক্লাবে নিয়ে দুজনকে আটকে রেখে ‘বিয়ে করেছে’ বিধায় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় সজীবের পকেটে থাকা দুই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ।

পরে দুলাল তাদের জানান, কয়েকদিন আগে আরও দুজন বিয়ে করার কারণে তাদের লাখ টাকা দিয়েছে। তাদের মেরে এ টাকা আদায় করা হয়েছে। সাজিবদের কাছে তো মাত্র ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। পরে সজীবের স্ত্রী বেতন পেলে টাকা দেওয়া হবে বলে কথা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে সজীব ও তার স্ত্রীকে মারধরও করে দুলালসহ তার বাহিনীরা।

জানা গেছে, দুলাল, কাওসার ও নাজমুল পল্লবী এলাকায় মিল্কভিটা কর্মচারী ইউনিয়ন ও যুবলীগের রাজনীতি করা সোহেলের পালিত সন্ত্রাসী। তারা সোহেলের মিছিল মিটিং করে।

এর আগেও মারধর করে চাদাদাবি করে সোহেল রানার পালিতো সন্ত্রাসীরা দুলাল গং রা সে সময়ে, গত ১০ মে পল্লবী থানায় জিডি করে ভুক্তভোগী। জিডির বিষয়ে জানতে পেরে পল্লবী এলাকায় মিল্কভিটা কর্মচারী ইউনিয়ন ও যুবলীগের রাজনীতি করা সোহেলের সন্ত্রাসী কারেন্ট দুলাল, কাওসার ও নাজমুল আবারো ধরে নিয়ে মারধর করে শাসিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার (১১ মে) কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তারা সজীবকে আটকে আবার মারধর করে। এ সময় হুমকি দিয়ে কাওসার তাকে বলেন, পুলিশ তোদের কয়দিন পাহারা দিয়ে রাখবো। তোর হাত-পা কাইটা ফালামু।

এ ব্যাপারে মিল্কভিটা কর্মচারী ইউনিয়ন ও যুবলীগের রাজনীতি করা সোহেল রানা বলেন, ওরা কি আমার বিষয়ে কিছু বলেছে। ওরা গার্মেন্টস কর্মী, মিটিং-মিছিলে তারা লোক দেবে কীভাবে।

আমি প্রধানমন্ত্রীর দল করি। আমি যদি খুন বা কোনো অপকর্ম করি, এর দায়ভার কি প্রধানমন্ত্রী নেবেন? দুলাল, কাউসার ও নাজমুল আমার লোক না। চাঁদাবাজির বিষয়ে আমার কোনো ছাড় নাই। আমি মিল্কভিটায় চাকরি করি ও স্টক লটের ব্যবসা করি। এসবের পাশাপাশি যুবলীগের রাজনীতি করি।

মিল্কভিটা এলাকা ঘুরে জানাগেছে, সোহেল রানা নাম হলেও তাকে অনেকেই দুধ সোহেল বা পিস্তল সোহেল নামেই জানে।

দখল বানিজ্যে গেলে কোমড়ে পিস্তল গুজে রাখে আর মিল্কভিটায় প্রবেশে তাকে দুধ সোহেল বলে ডাকে। স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা বলেন, সোহেল রানা ক’ছবর আগেও গার্মেন্টসের হেলপারির কাজ করতো। বাংলায় প্রবাদ আছে: নুন আনতে পান্তা ফুরায় “দুবেলা খাবার জোটানো ছিলো যার নিত্যদিনের সংগ্রাম। সে এখন যুবলীগের সংগ্রামী নেতা। যুবলীগের মিছিল মিটিং করে মিল্কিভিটা এলাকার সড়ক ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অন্যদিকে ঝিলপাড় বস্তির ডন রূপনগর থানার পিছনে ক্লাবঘর ধর্ষণ ও মাদক মামলার আসামি কারেন্ট দুলালের সাথে অবৈধ ব্যবসা শুরু করে পিস্তল সোহেল। বস্তিতে ঘর দখল বানিজ্য, গ্যাস বিদ্যুৎ পানির অবৈধ সংযোগ দেওয়া। অটোরিকশার কার্ড বানিজ্য সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা আর টাকার গরমে তার চালচলন কথাবার্তা মারাত্মক হিংসাত্মক মনোভাব প্রকাশ পায়। কেন্দ্রের এক হেভিওয়েট যুবলীগ নেতার আশীর্বাদে সে মিল্কভিটা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা বনে গিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাসে তার লাখ লাখ টাকা আয়। আরেক যুবলীগের কর্মী বলেন, শুনছি, আগামীতে সোাহেল রানা ভাই নাকি ৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচন করবে। টাকা দিলেই যদি কাউন্সিলর হওয়া যায় তাহলে সোহেল রানা ভাই বস্তা বস্তা টাকা দিয়ে হলেও দলীয় নমিনেশন কিনবে।

তিনি আরো বলেন, ক্লাব ঘর করেই যত অপকর্ম সহজেই করতে পারে সে। পিস্তল সোহেল রাতের বেলায় দামি কার নিয়ে চলাফেরা করে। একাধিক গাড়ী ভাড়া দেওয়া রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে। সেই গার্মেন্টস কর্মী অল্প সময়ের মধ্যে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া সোহেল রানার এই অর্থ কি ভাবে হলো তা খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের দারস্থ হবেন এলাকাবাসি।

চাঁদাবাজি ও মারধরের বিষয়ে পল্লবী থানার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারিক বলেন, সজীবের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৩২৩, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ - সর্বশেষ সংবাদ