রাজধানী

রূপনগরে ফার্মেসীতে চলছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রির রমরমা বানিজ্য ।

%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a6%9b%e0%a7%87

রূপনগরে ফার্মেসীতে চলছে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রির রমরমা বানিজ্য ।

ডেক্স রিপোর্ট: দেশে কিছু অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ী ঔষধ বিক্রির অন্তরালে নেশাজাতীয় ইনজেকশন ট্যাবলেট বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে অহরহ । আইনের কড়া নজরদারীর অভাবে এরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

 ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদের পাশাপাশি এবার নেশার রাজ্যে যুক্ত হয়েছে ঘুমের ট্যাবলেট। বিভিন্ন ধরণের ঘুমের ট্যাবলেট মাদক সেবীদের কাছে দিন দিন প্রিয় হয়ে উঠছে।

বলা চলে মাদকদ্রব্যের অতিরিক্ত মূল্যের কারনে ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতার ফলে মাদক সেবীরা ঝুঁকে পড়েছে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেটের দিকে।

সেই সুযোগে ফার্মেসীর মালিকরা ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মুল্যের চেয়ে ১০ গুন বেশি টাকা। হাত বাড়ালেই যে কোন ফার্মেসী থেকে অনায়াসে মিলছে এসব ঘুমের ট্যাবলেট।

এলাকায় বেশির ভাগ লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্সধারী ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট।  জানা যায় রাজধানীর রুপনগর থানাধীন আবাসিক এলাকার ২০-নম্বর রোডের, ২১-নং বাড়ীর নীচতলায় অবস্থিত ওয়ারদা ফার্মেসী ও বুক ভিশন সেখানেও বিক্রি হয় কিশোরদের কাছে এসব অতিরিক্ত মাত্রার ঘুমের ট্যাবলেট ।

সরেজমিনে দেখা যায় যে (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে ওয়ারদা ফার্মেসীর মালিক শহিদুল সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন নামী দামী ঔষধ কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেট প্রেসক্রিপশন ছাড়া অপ্রাপ্ত বয়সের কিশোরদের নিকট (ইনসেপ্টা কোম্পানীর ডিসোপ্যান-২’ক্লোনাজেপাম,২মি.গ্রা.) ঔষধ বিক্রয় করে।

পরে স্থানীয়রা  ক্রেতা রাজন (১১)র’ কাছে, জানতে চায় এই ঔষধ খাবে কে? পরে এক’কান দু’কান হলে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়ালের খবর! সে নিজেই খাওয়ার জন্য কিনেছে, রাজনের কাছে জানতে চাওয়া হলে, সে বলে ঔষধ খেলে মাথা ঝিমঝিম করে প্রচুর ঘুম আসে, মনে হয় আকাশে উড়ছি।

এবিষয়ে ফার্মেসীর মালিক শহিদুল বলেন, আমি তো দোকানেই ছিলাম কিন্ত এই ঔষধ তো আমি বিক্রয় করিনি আমার কর্মচারী ছেলেটি বিক্রয় করতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রয়ের কোন নিয়ম নেই ভুল করে হয় তো বিক্রয় করতে পারে। ঔষধের দাম বেশি নেওয়ার কারন জানতে চাইলে শহিদুল বলেন, ছেলেটা দাম হয়তো জানেনা তাই সে বেশি নিতে পারে।

এবিষয়ে কথা হয় (ঔষধ প্রসাশন অধিদপ্তর) পরিচালক নায়ার সুলতানা সাথে – তিনি বলেন, এটা মারাক্তক অপরাধ অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

এবিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, এলাকার ছোট ছোট নাবালক শিশু কিশোর কিশোরীরা এই ফার্মেসী থেকে নেশার ট্যাবলেট কিনে খেয়ে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে আমরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারিনা তারা থানা-পুলিশ ও এলাকার প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চলে । কিন্ত অবাক করা বিষয় হলো আবাসিক এলাকা হলেও বানিজ্যক স্থাপনায় ভরা। দেখা যায় বাসার নীচতলায় একই ফ্লোরে ওয়ারদা ফার্মেসী ঔষধ রাখা অন্য পাশে স্টেশনারী, বই খাতা ও বাচ্চাদের নানা ধরনের খেলনা সাজানো।

এছাড়াও রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী বাউনিয়াবাধ এলাকাসহ বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে ওঠা ঔষধের দোকান গুলোতেও প্রায় একই চিত্র। আরও খোজ খবর নিয়ে জানা যায় প্রায় প্রতিদিনই অন্যান্য ঔষধের চেয়ে ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রয় হচ্ছে বেশি।  এমন অনেক ফার্মেসী আছে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ প্যাকেট ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে।

সরকারি নিয়মনীতিমালায় যে কোন ঔষধ, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষেধ থাকলেও মিরপুর  এলাকার  চিকিৎসক নামে ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন শত শত ঔষধের দোকান গুলো তা মানছে না। এসব ফার্মেসী সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শুধু টাকার বিনিময়েই বিক্রি করছে।

সুশীল সমাজের লোকজন এ ঘুমের ঔষধ সেবন বিষয়ে বলেন, ডিসোপ্যান-২’ক্লোনাজেপাম,২মি.গ্রা. অপারেশন করা বেশির ভাগ রোগীর জন্য প্রযোজ্য অধিক ঘুমের জন্য তা শুধু ডাক্তারি পরামর্শে ব্যবহার যোগ্য। তারা আরও বলেন, ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া কোন সুস্থ মানুষ প্রতিনিয়ত এই ঔষধ সেবন করলে মানব দেহের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ক্যান্সার সহ ব্রেন ব্লক হয়ে সেন্স লেস হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ভিড় করে ওয়ারদা ফার্মেসীর সামনে। পরে সাংবাদিকদের পেয়ে একাধিক অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়রা আরও বলেন, রূপনগর মডেল স্কুলের বেশির ভাগ ফাইভ, সিক্স সেভেন পড়ুয়া ছাত্রদের হাতে মুল্যের চেয়ে বেশি দামে ঘুমের ঔষধ বিক্রি করে তাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে মরণ নেশার মাদক। এ ঔষধ সেবন করে তারা পড়ালেখা করে না স্কুলে ঠিক মত ক্লাস করেনা রাস্তা ঘাটে যেখানে সেখানে ঘুমিয়ে থাকে ও দল বেধে মাতলামি করে, পরিবারেও নেমে আসে অশান্তি। তারা আরও বলেন, কিছু দিন আগেও ২/৩ জন স্কুল শিক্ষার্থী এই দোকানের ঘুমের ঔষধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে জীবন নাশের সন্দিখনে পড়ে পাগল প্রায়।

এসব ফার্মেসী থেকেই ঔষধ সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় শুনা যায় ঘুমের ট্যাবলেট শুধু  খাদ্য সামগ্রীর সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করে ক্ষান্ত নয়, বিভিন্ন কায়দায় সাধারণ মানুষকে সেবন করিয়ে লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। নিভিয়ে দিচ্ছে জীবন প্রদীপ।

ঘুমের ট্যাবলেটের মধ্যে রয়েছে সিরামিন সিরাপ ইবনেসিনা কোম্পানী, স্কয়ার  লাইজন এএমজি, সেডিল ২০ পিস ৫এমজি, ট্রাইপট্রিন ১০/২৫এমপি, ডরমিটল ৭.৫/১৫ এমজি, রেডিএন্ট কোম্পানীর এবং ল্যাগজুটেনিল ৩এমজি, অরিউন কোম্পানীর গোফাম ৩ এমজি, সেনডোজ কোম্পানীর এক্সিউনিল ৩এমজি, অপসোনিন কোম্পানীর ইজিয়াম ৫এমজিপেইস ২ এমজি, ইনসেপটা কোম্পানীর হাইফনোফাস্ট ১৫ এমজি, ডিসোপান ২ এমজি, ক্লোসান ২এমজি, এসকেএফ কোম্পানীর মিলাম ১৫এমজি পাতা থেকে ছাড়ানো হয় পরে সেগুলোকে একত্রিত করে বাটা হয় কাগজ ওপর বাটা শেষে সিরামিন সিরাপের বোতলে ভরে  সাথে মেশানো হয়। ৫/৭ মিনিট পরে সেবন করা হয় জাক্কি নামক মরণ নেশা।

অথচ এসব ঔষধ গুরুতর অসুস্থ্য, দুর্ঘটনার আহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ লোকজনের ঘুমের ব্যাঘাত ঠেকাতে উৎপাদন ও বাজার জাত করছে। ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিরা এসব ঔষধ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও অতি মুনাফার আশায় বিক্রি করছে।

এসব ঔষধ খেয়ে প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী কিশোর-কিশোরীর জীবন ধ্বংস হতে চলছে। নেশায় আসক্ত হয়ে পরছে দিন দিন তারা। নেশায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য করছে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ, চুরি,ছিনতাই এমনকি মানুষকে হত্যা করতেও পিছু পা হচ্ছেনা। নেশার টাকা জোগাতে মা’বাবা কে মারধরের ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। এসব ঔষধ রাজধানীর  বিভিন্ন ফার্মেসীতে প্রেসক্রিপশান ছাড়াই  বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অধিক লাভের আশায় ফার্মেসীর মালিকরা সরকারের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যে কোন ব্যক্তির হাতে ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এসব ট্যাবলেট তুলে দিচ্ছে। আর এসব ঘুমের ট্যাবলেট মাদকাসক্তদের হাতে চলে যাচ্ছে অনায়াসে। ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে বেকে যাচ্ছে আমাদের উঠতি তরুন সমাজ।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

three × five =

বাংলাদেশ একাত্তর