আইন ও আদালত, সারাদেশ

চট্টগ্রামে আটক মাদকের রাজবাড়িতে হোতা যারা।

%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%9a

চট্টগ্রামে আটক মাদকের রাজবাড়িতে হোতা যারা !

(বাংলাদেশ একাত্তর.কম) প্রতিনিধিঃ মুন্না।

চট্টগ্রামের নবগঠিত কর্নফুলী উপজেলার মাইজ্জরটেক চেকপোষ্টে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ইয়াবার বিশাল চালান। একটি প্রাইভেটকার যোগে টেকনাফ থেকে ওই মাদকের চালান নিয়ে রাজবাড়িতে ফিরছিলেন আশরাফুজ্জামান ও রাসেল। পুলিশের জব্দ করা ওই প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা হয় ৮০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতিকালে আটক এটাই সবচে বড় ইয়াবা চালান। গ্রেপ্তারকৃত আশারাফুজ্জামান ও রাসেলের বাড়ি রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায়।

তারা পাংশার লাগোয়া কালুখালী উপজেলার মহনপুর বাজারে পাইকারী ও খুচরা বিক্রির জন্য ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে মহনপুর বাজারে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রির আলোচিত হাট বাজার হিসেবে গড়ে তুলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুজ্জামান ও রাসেল রাজবাড়ী জেলায় তাদের আশ্রয়দাতা ও বিক্রিত মাদকের লাভের অংশ নেন এমন কয়েজনের নাম বলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করছে না তবে আমাদের কাছে ওই সব গডফাদারদের নাম এসেছে।

সূত্র জানায় রাজবাড়ি থেকে কুষ্টিয়া -মাগুরা সীমানা এলাকা পর্যন্ত মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান হোতা রাজবাড়ির একজন সংসদ সদস্যর ভাই। তিনি সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালেরও পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার স্ত্রীও ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি পুলিশের বিষয়টি দেখভাল করেন। মাদক সিন্ডিকেটের আরেক গডফাদার হলেন এক কৃষক নেতা। কৃষক লীগের পরিচয়ে তিনি মুলত রাজবাড়ির মাদক কারবার নিয়ন্ত্রনের কাজ করেন এবং বিক্রিত মাদকের লাভের টাকা তিনি সিন্ডকেট সদস্যদের কাছে পৌছে দেন। এই কৃষক নেতা কয়েকবার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা নির্বাচন করে জামানত হারান। তিনি একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন। মাদকের আয়ের টাকা দিয়ে দলের পদ ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য রাজবাড়ির একটি উপজেলা পরিষদের সাবেক এক চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনে কু-কর্মের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েও জামানত হারিয়েছেন। বাদ পড়েছেন দলের সভাপতির পদ থেকেও। এক সময়ে ছিলেন ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের ক্যাডার। তার এক ভাইও কিছু দিন আগে রাজশাহীতে মাদক দ্রব্যসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। মাদক ব্যবসার সব অ-কাজের কাজী তিনি।

কালুখালীর মহনপুরের যে বাজারটি মাদককের পাইকারী বাজার বলে খ্যাত সেই বাজারের কাছেই বাড়ি এক সাবেক ছাত্রনেতার। তিনিও এই সিন্ডিকেটের সদস্য। তার আপন ভাই একবার ফেনসিডিল সহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়াও ওই সিন্ডিকেটে রয়েছে রাজবাড়ি শহরে বসবাসকারী এক সাবেক শিবির কর্মী, যিনি বর্তমনে ঢাকার একটি নামকরা জাতীয় দৈনিকের রাজবাড়ি প্রতিনিধি। চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ আটক হওয়া আশরাফুজ্জামান ও রাসেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা দু’জন ইয়াবা চালানের বাহক মাত্র। রাজাড়িতে মাদকের মূল নিয়ন্ত্রক ওই সব নেতারা।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

two × four =

বাংলাদেশ একাত্তর