রাজধানী

মিরপুরে চোরাই মোবাইল মার্কেটে জমে উঠেছে বেচাকেনা

%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0

বাংলাদেশ একাত্তর.কমঃ নিজেস্ব প্রতিবেদক।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে চোরাই ফোনের রমরমা ব্যবসা। গড়ে উঠেছে অস্থায়ী মার্কেটও। একটি সংঘবদ্ধ চক্র আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বর বদলে দামি ব্র্যান্ডের ফোনও অর্ধেক দামে বিক্রি করছে এসব মার্কেটে। আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনে তাদের রয়েছে নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারও।

সাধারণত প্রতিটি ফোনের ১৫ ডিজিটের এই আইএমইআই নম্বর দিয়েই প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা যায়। কিন্তু তা বদলে ফেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময় আটক চোরাই ফোনগুলো প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিতে সম্ভব হচ্ছে না। মিরপুর-১, ভাষানটেক ও পল্লবীতে রয়েছে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে এ দোকান গড়ে উঠেছে। মিরপুরের বিভিন্ন স্থান হতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চুরি, ছিনতাই হওয়া মোবাইল বেশির ভাগ এ সকল মার্কেটেই বিক্রি হয়। এ সকল মার্কেট থেকে মোবাইল কিনে বিপাকে পড়েন অতি সাধারণ মানুষরা। বেশি দামের মোবাইল অল্পদামে কিনে, কথায় আছে লোভে পাপ পাপে মৃত্যু!

লাল মাটিয়া মুল সড়কের ৮০ % দখল করে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট-ছবি বাংলাদেশ একাত্তর.কম

দেখা যায়, পল্লবী থানাধীন এলাকার লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ড জুড়েই প্রায়ই সাড়ে তিনশ বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট সাজিয়ে বসেছে। ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনেই (১২০ ফুট) সড়কের ৯০ ভাগ দখল করে সড়কের উপরই বাঁশ খুটি গেড়ে জুতা-স্যান্ডেল, শাড়ী-কাপুড়ের বিভিন্ন রকমের দোকানপাট সাজিয়ে ব্যবসা করছে। তার ২০ গজ সামনে (পলাশ নগর গেট সংলগ্নে অনেক কম দামে নামি-দামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বিক্রির অস্থায়ী মার্কেট রয়েছে। এ মোবাইল মার্কেটে প্রচুর ক্রেতার আনাগোনা লক্ষ করা যায়। করোনায় সামাজিক দুরত্ব ও মানছেনা তারা গায়ে গায়ে লেগে আছে এ চোরাই মোবাইল মার্কেটে।

জানাযায়, পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এসি শামীম থাকা কালিন সময়ে তার নেতৃত্বে লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ডের চোরাই মোবাইল মার্কেট থেকে ৫০৪ টি চোরাই মোবাইল ও ৬ জন চোরকে আটক করে জেলে প্রেরন করেন। সে সময় পেয়েছেন এলাকাবাসীর সন্মানা, এসি শামীম বদলী হওয়ার পরেই আবারো চালু হয়েছে এ চোরাই মোবাইল মার্কেট। এ মার্কেটে আগের থেকে বিক্রেতা ও ক্রেতার সংখ্যা আরো বেশি। সন্ধ্যা হলেই পুরো সড়ক ও ফুটপাত জুড়েই ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় জমে থাকে। যে কারনে বিভিন্ন পেশাজীবি নারী ও পুরুষ অফিস শেষ করে বাসায় ফিরার পথে এই সড়কে দুর্ভোগের শিকার হন। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি ও মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও এ বিড়ম্বনার শিকার হন।

এলাকাবাসী বলেন, এ বাজারের কারনে গাড়ি চলাচল করতে পারেনা। হাটা-চালার ও ব্যাঘাত ঘটে ছোটবড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। মারামারি ধরাধরি তো আছেই। দেশের করোনা পরিস্থিতি ভালোনা তারপরও স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালী মহলের লোকজন থানা পুলিশের নাম করে এ বাজার বসিয়েছে। তারা মনে করেন প্রশাসন চাইলে আগের মত উচ্ছেদ করতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পল্লবী থানাধীন এলাকার লাল মাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ডের চারপাশে ও পলাশ নগর গেট সংলগ্নে অবাদে চলছে ক্রেতা বিক্রেতা বেচাকেনার হিড়িক। মুল সড়কের ৮০ ভাগ ও ফুটপাত দখল করেই এ চোরাই মোবাইল মার্কেট ও বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট, জামা-কাপড় জুতা স্যান্ডেল, কাঁচা বাজার রয়েছে। এ চোরাই মোবাইল ছাড়াও বিক্রি হয়, ল্যাপটপ, জুতা- চার্জার লাইট, মোবাইল চার্জার, হেডফোনসহ ইত্যাদি। সব মিলিয়ে প্রায়ই সাড়ে তিনশ দোকান বসে লাল মাটিয়া টেম্পু স্ট্যান্ড জুড়ে। দৈনিক এ সকল দোকান থেকে স্থানীয় এক নেতা পাঞ্জাবি দাড়ি-টুপি পড়ে চাঁদা তুলে।

এলাকাবাসী বলেন, পল্লবী থানা জাতীয় পার্টির নেতার সেল্টারে এ সকল অবৈধ ভাবে বাজার চলে। থানা পুলিশ সব সেই দেখে। এ বাজার উচ্ছেদের জন্য এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোবাইল বেচাকেনা হয় তবে, সব চোরাই কিনা এটা তো বলা মুশকিল, চোরাই মোবাইল বিক্রির অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

বাংলাদেশ একাত্তর, নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ রবিবার-০৫/০৭/২০২০ইং

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

2 × 5 =

বাংলাদেশ একাত্তর