NEWS, জাতীয়, রাজধানী

বোটানিক্যাল গার্ডেনের বেহাল দশা! কমছে দর্শনার্থী-নজর নেই কতৃপক্ষের

%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%87

(আফজাল হোসেন) রাজধানীর মিরপুর-১ চিরিয়াখানা রোডে অবস্থিত সেখানে দৈনিক দেশ বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থীদের আগমন অথছো   অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে দর্শনার্থী কমছে। গার্ডেনে মানুষের হাঁটা ও ব্যায়ামের জন্য সূর্যোদয় থেকে পরবর্তী ১ ঘণ্টা উন্মুক্ত থাকার নিয়ম থাকলেও সেই নিয়ম মানছেন না ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স এইচএন ব্রিকস।

সরেজমিন দেখা যায়, গার্ডেনের প্রবেশ পথের গেটে (টিকিট কেটে যেখান দিয়ে ঢুকতে হয়) কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ঘোরাঘুরি করছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া গার্ডেনে প্রবেশ নিষেধ থাকলেও এ নিয়ম মানা হচ্ছে না।

প্রবেশ পথের গেট থেকে একটি আধাপাকা রাস্তা চলে গেছে গার্ডেনের পরিচালকের অফিস পর্যন্ত। রাস্তার দু’পাশে কিছুদূর পর পর সাইনবোর্ডে গার্ডেন কর্র্তৃপক্ষের কিছু বিধি নিষেধ লেখা রয়েছে। এতে লেখা রয়েছে, ঝোপঝাড়ের আড়ালে জুটিবদ্ধ হয়ে বসা নিষেধ, উদ্যানটি প্রেমকানন নয়, আপত্তিকর অবস্থায় বসা নিষেধ ইত্যাদি। অথচ সাইনবোর্ডের পাশেই ঝোপঝাড়ের আড়ালে অনেকেই জুটিবদ্ধ হয়ে বসে আছেন। বিষয়টি দৃষ্টিকটু ও বিব্রতকর হলেও এদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই জুটিবদ্ধ কপোত-কপোতিদের। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুনসুটিতে মত্ত রয়েছেন। উদ্যানে বসার স্থান ভাঙাচোরা ও ময়লা-আবর্জনায় ভরা।

চার পাশের ভাঙা সীমানা প্রাচীর সংস্কার করা হলেও প্রাচীরের দেয়াল উঁচু করা হয়নি। দেয়ালে কোনো কাঁটা তারের বেড়া নেই। এতে উদ্যানটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। আর অযাচিতভাবে বহিরাগতরা প্রবেশ করছে। নানা রকম অসামাজিক কাজ করে তারা সটকে পড়ছেন। গার্ডেনের পরিচালকের কার্যালয়ের পাশে শিশু পার্কটি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। পার্কটির ভেতর ও চার পাশে ময়লা-আবর্জনায় ভরা। এতে পার্কের বিভিন্ন উপকরণ ও রাইডস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গার্ডেনের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, শিশু পার্কটি ঝুঁকিপূর্ণ। কিছুদিন আগে এটি চালু হয়েছিল। নিম্নমানের কাজ হওয়াতে এক দুর্ঘটনা ঘটে। দোলনাসহ কিছু রাইডস ভেঙে পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। তাই বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন করে সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তারা বলেন, উদ্যানে ধীরগতির উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই পরিবর্তন বুঝা যাচ্ছে না। বর্তমানে এখানে কোনো হকার ঢুকতে পারে না। গার্ডেনে লোকবলের সংকট রয়েছে। কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। তাই গার্ডেনের সড়ক ময়লা-আবর্জনায় ভরা।

মিরপুর বাংলা স্কুলের শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, পিকনিকের জন্য উদ্যানটি একটি ভালো স্পট। কিন্তু গান-বাজনা ও ভিতরে রান্না করা নিষেধ থাকায় এখানে কেউ আসতে চায় না। সকালে হাঁটতে আসা দর্শনার্থী ফজর আলী বলেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পরই হাঁটতে আসি। এসে দেখি লোকজন টিকিট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ফ্রি ঢোকার কোনো ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করে গেটের এক দারোয়ান বলেন, গার্ডেনে ফ্রি বলতে কোনো কিছু নেই। আরও দেখা যায়, ৮টি পাবলিক টয়লেট বেহাল হয়ে পড়েছে। একমাত্র দর্শনার্থী কেন্দ্র ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ৩টি জলাশয় ময়লা-আবর্জনায় ভরা। দর্শনার্থী ছাউনি ও দর্শনার্থী ডেক বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের ইজারাদার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রতি বছরই গার্ডেনে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমছে। সংস্কারের জন্য যে উন্নয়ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দর্শনার্থী বাড়বে। সূর্যোদয়ের পর সবার জন্য ১ ঘণ্টা বোটানিক্যাল গার্ডেন উন্মুক্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে আগের চেয়ে গার্ডেনের পরিবেশ অনেক ভালো। এখন সংস্কার কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এ গার্ডেনকে আন্তর্জাতিক মানের করা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে আশানুরূপ পরিবর্তন হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

1 × 5 =

বাংলাদেশ একাত্তর