নির্বাচন

ঢাকা সিটি নির্বাচনে জটিলতা খুলতে পারে মন্ত্রণালয়ই

%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b2

ঢাকার ভোটের জট খুলতে ইসির পক্ষ থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এ সংক্রান্ত বাকি পদক্ষেপগুলো নিতে হবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে। এই মত ইসি কর্মকর্তা ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের।

আদালতের নির্দেশে বুধবার ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত হওয়ার পরে গতকাল বৃহস্পতিবার আরেক আদেশে দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত হয়ে যায়। তবে নির্বাচন সংশ্নিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকার ভোট নিয়ে সরকার ও ইসি কারও কোনো আগ্রহ নেই। বুধবার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব ইসির। কিন্তু স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইনে স্পষ্টই বলা আছে, সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাদেরই এখন সে কাজটি করতে হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের মেয়াদ নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে সেটাও নিরসন করতে হবে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সমকালকে বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সেটা দিতে প্রস্তুত। সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয় আইনের মধ্যে থেকে সহযোগিতা করবে।

এদিকে বুধবার আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদাকে ছাড়াও কমিশন সদস্যরা বৈঠক করেন। সেখানে তারা আদালতের লিখিত আদেশ পাওয়ার পরে করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সিইসির সভাপতিত্বে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে ঢাকার ভোট নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরে ভোটার তালিকা নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকছে না। আইনে আছে- নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বশেষ ভোটার তালিকায় ভোট নেওয়া যাবে। তবে স্থগিত হওয়া তফসিলে সমস্যা দাঁড়িয়েছিল, তফসিল ঘোষণার সময় ইসির হাতে যে ভোটার তালিকা ছিল সেটা না করে ভোট গ্রহণের সময় হালানাগাদ তালিকা ব্যবহার করতে হতো। ৩১ জানুয়ারির পর এ সমস্যা থাকছে না। তিনি বলেন, আদালতের আদেশের লিখিত কপি পাওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইনে বলা আছে- বছরের যে কোনো সময় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইসির হাতে থাকা সর্বশেষ ভোটার তালিকা দিয়ে ভোটের আয়োজন করা যাবে। তাহলে তারা এক তালিকায় তফসিল ঘোষণা করে, আরেক তালিকায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় কীভাবে? এতেই তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে।

আদালতের আদেশের বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালত যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন সেগুলো আগে থেকেই কমিশনের নজরে আনা হয়েছিল। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার ও কমিশন তা আমলে না নিয়ে তফসিল ঘোষণার জন্য আজ এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দু’পক্ষের যোগসাজশ রয়েছে কি-না সেই প্রশ্নও তোলেন তারা।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, আদালত যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছেন তা পুরোপুরি যৌক্তিক। আগেই এসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা এর সুরাহা না করে কেন তফসিলে গেলেন? সরকারের ইচ্ছায় ইসি এই পথে হেঁটেছে কি-না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, আদালত যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছেন তার সবগুলোই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজ। সরকার ও ইসির যৌথ উদ্যোগে দ্রুতই নির্বাচনের জটিলতা কেটে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তাদের মতে, সহসাই ঢাকার ভোটের কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি জারি করা রুলে মেয়র পদে উপনির্বাচন ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

তাই নির্বাচন শুধু তিন মাসের জন্য নয়, দীর্ঘ সময়ের জন্য ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ গত বছর ২৬ জুলাইয়ের পর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গঠনের বৈধতাও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার আইনের করপোরেশনের সব ওয়ার্ডে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। এতে বলা হয়েছে, ‘মেয়রের পদসহ কর্পোরেশনের শতকরা পঁচাত্তর ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইলে, কর্পোরেশন এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে যথাযথভাবে গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।’ কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় বৈধতার সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে দায়ের করা আবেদনেও এ সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। গত বছর ২৬ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করা ১৬টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ৩৬টি ওয়ার্ড গঠন এবং এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ডিএনসিসি যথাযথভাবেই গঠিত হয়েছিল। তখন শতভাগ ওয়ার্ডেই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, নতুন ১৮টি ওয়ার্ড গঠিত হওয়ার পর। এখন অপেক্ষা করতে হবে এ সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত। করপোরেশন ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দিলেও এর সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাহলে পাঁচ বছরের জন্য যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের অধিকার খর্ব করা হবে। তারাও আইনের আশ্রয় নিলে নির্বাচন আটকে যাবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন অবশ্য মনে করেন, ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ইসির পক্ষ থেকে আদালতে ভোটার তালিকা সিডি দাখিল করে জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন। বাকিটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।সুত্র সমকাল

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

1 × five =

বাংলাদেশ একাত্তর