রবিবার , ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও আদালত
  3. আওয়ামীলীগ
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. বি এন পি
  10. বিনোদন
  11. বিশেষ সংবাদ
  12. রাজধানী
  13. লাইফস্টাইল
  14. শিক্ষা
  15. শিল্প ও সাহিত্য

জাতীয় পার্টির সমাবেশস্থলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজার হাজার জনতা।

প্রতিবেদক
bangladesh ekattor
অক্টোবর ২১, ২০১৮ ২:২৪ পূর্বাহ্ণ

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান , শনিবার সকাল ১০টার মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মহাসমাবেশস্থল।জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’র মহাসমাবেশে ।

 [বাংলাদেশ কাত্তর] শেখ রাজু  ;

এ সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের সবক’টি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।  সুশৃঙ্খল থাকায় তেমনবেগ পোহাতেহয়নি পুলিশ প্রশাসনকে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে জনতার এ উপস্থিতি সমাবেশে  আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে এককভাবে ক্ষমতাসীন করতে শক্তি, সাহস ও উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত জাতীয় পার্টির হাজার হাজার নেতাকর্মী ভোর থেকেই অবস্থান নেন সমাবেশস্থলে। সকাল হতেই বাড়তে থাকে লোক সমাগম। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ঢাক-ঢোলসহ নেচে-গেয়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন নেতাকর্মীরা।

এর মধ্যে ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনের এমপি, সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সমর্থকদের রেকর্ডসংখ্যক উপস্থিতি দেখা গেছে। তার পক্ষে ঢাক-ঢোল এবং সানাই বাজিয়ে লাঙ্গলের বাহারি মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হন।

মিছিলে প্রত্যেক নেতাকর্মীর হাতে ছিল এরশাদ ও সালমা ইসলামের ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানার, লাঙ্গল আর গায়ে এরশাদ ও সালমা ইসলামের ছবি সংবলিত গেঞ্জি। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে তারা মিছিলসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন।

দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতারা বলেন, পদ্মার ভাঙন কবলিত এলাকার উন্নয়নের নেত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির নেতৃত্বে দোহার ও নবাবগঞ্জে জাতীয় পার্টি, জাতীয় মহিলা পার্টি, শ্রমিক পার্টি, কৃষক পার্টি, যুব সংহতি, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, ছাত্রসমাজ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী যার প্রমাণ আজকের সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি।

এছাড়া মহাসমাবেশে উদ্যানজুড়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-১৫ আসনে জাতীয় পার্টির  মনোনয়ন প্রত্যাশী, মোঃ সামসুল হক, ঢাকা-৬ থেকে কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের একেএম সেলিম ওসমান, চট্টগ্রাম থেকে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, কিশোরগঞ্জ থেকে মুজিবুল হক চুন্নু, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি ডা. আক্কাস আলী সরকার, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী পনির উদ্দিনসহ দলের নানা পর্যায়ের নেতারা লোকসমাগম ঘটিয়ে ব্যাপক শোডাউন করেন।

ঢাকা-১৫ আসনের জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সামসুল হক এর মিছিলটিও ছিলো চোখে পড়ার মত। মিরপুর থেকে আগত এ সময় সাদ্দাম হোসেন মুন্না বলেন, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আমরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে, জনাব সামসুল হক- কে, ঢাকা-১৫ আসনে এমপি হিসেবে দেখতে চাই। সে সময় মিছিলে থাকা সামসুল হক সমর্থন’রা স্লোগানে স্লোগানে উল্লাসে মেতে উঠেন।

সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীর হাতে বড়, মাঝারি ও ছোট আকৃতির লাঙ্গল ছিল। দৃষ্টিনন্দন ও সুসজ্জিত সমাবেশের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করে নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এর আগে সকালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-১ ও তার স্ত্রী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রত্নার নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-৬ আসন থেকে লঞ্চে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সদরঘাটে এসে পৌঁছান। সদরঘাট থেকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে মিছিলসহ সকাল ৯টার আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করেন।

এদিকে মহাসমাবেশ সামনে রেখে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিশাল আকারের অসংখ্য ছবি শোভা পায় উদ্যানজুড়ে।

এছাড়া রাজধানীর কাকরাইল থেকে শাহবাগ ও পুরানা পল্টন থেকে প্রেস ক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন পর্যন্ত পুরো সড়ক রং-বেরঙের পতাকা ও জাতীয় পার্টির দলীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার শেষ পর্যায়ে দলীয় সঙ্গীত ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ব মোরা, নতুন করে আজ শপথ নিলাম’ পরিবেশন করেন তিনি। এ সময় মঞ্চে ও সামনে বসে থাকা নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে গান ধরেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১৫০টি মাইক লাগানো হয়।

সর্বশেষ - অন্যান্য