জাতীয়, সারাদেশ

ক্লাব চর্চা-খেলাধুলা-ক্রিকেট মাঠ হয়নি, মানিকগঞ্জ সয়লাব হয়েছে মাদকে

%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac-%e0%a6%9a%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%be-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0

বাংলাদেশ একাত্তর.কম। 

জাতী’য় ক্রিকে’ট টিমের অধিনা’য়ক থাকা’য় নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কাছে মানিকগঞ্জ বাসী’র আলাদা চাওয়া পাওয়া ছিল।’ আশা ছিল খেলা’ধুলা আর সৃজন’শীল বিকাশে মানিকগঞ্জের কিশোর তরুণ’রা এগিয়ে যাবে, দেশবাসীর দৃষ্টি কাড়বে।’

দুর্জয় এমপি নির্বা’চিত হওয়ায় সে আশা রীতি’মত জেলা’বাসীর প্রাণে’র দা’বি হয়ে দাঁড়া’য়।’ সবারই দৃঢ়মূল বিশ্বাস ছিল ক্রিকেটার দুর্জয়ে’র তত্ত্বাব’ধানে গ্রামে গ্রামে ‘ক্লাব’ কালচার ফিরে আসবে।, কিশোর-তরুণ’রা আড্ডা’বাজি, নেশা-জুয়া ছেড়ে খেলা’ধুলা শরীর’চর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাক’বে।’ মানিক’গঞ্জ থেকেও জাতী’য় পর্যায়ে’র খেলোয়াড় গড়ে উঠবে, সুযোগ পাবে জাতীয় দলেও।’ নিদেন’পক্ষে মানিক’গঞ্জে এক’টা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ হবে।’

কিন্তু সেসব প্রত্যাশা’য় চুন’ কালি মেখে এমপি’ দুর্জয়ে’র নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকতাতে’ই মানিক’গঞ্জ এখন মাদক বিস্তা’র ও কিশোর ‘গ্যাং’ অপরাধের শীর্ষ জেলায় পরিণত হয়ে’ছে।’ সেখানে প্রধানমন্ত্রী’র প্রতিশ্রুতি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের ব্যাপারটিও নানারকম জটিলতা বাঁধি’য়ে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।’

এমপি দুর্জয়ের’ নির্বাচনী এলাকা’কে বানিয়ে ফেলা হয়েছে ব্যক্তিগত ব্যবসা বাণিজ্যের উর্বর ভূমি।’ সেখানকার তারুণ্যকে আটকে ফেলা হয়েছে নেশার ফাঁদে।’

এমপি দুর্জয়ে’র ডান হাত খ্যাত জেলা পরিষদ সদস্য, যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবুল বাশার এবং বাম হাত হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক (রাজা)’র নেতৃত্বেই জেলার মাদক বাজার ও কিশোর অপরাধীদের গ্যাং গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।’ শীর্ষ পর্যায়ের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও মাদক’সহ কিশোর ‘গ্যাং’ বিস্তারে’র অপ’কর্মে এ দু’জনকে দায়ী করা হলেও তাদের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে এমপি দুর্জয়ের নাম।,

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথ’ক পৃথ’ক জরিপ ও অনুসন্ধা’নে মানিক’গঞ্জে মাদক বিস্তার ও কিশোর গ্যাংগুলোর অপরাধ তৎপরতাকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

শীর্ষ পর্যায়ে’র এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মানিকগঞ্জ জেলার ১৪২ জনের বিরুদ্ধে মাদকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।’ গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ মন্ত্রনালয়গুলোর জরিপ রিপোর্ট ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যাল’য়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে,’ মাদক বাণিজ্য পরিচালনাসহ সন্ত্রাসী লালন পালনে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারী হিসেবে জেলার ১৪ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির যে তালিকা রয়েছে তার’মধ্যে ২নং তালিকায় আছে আব্দুর রাজ্জাক (রাজা) এবং ৩নং তালিকায় আবুল বাশারের নাম রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এই চিহ্নিত অপরাধীদের নিয়ে দুর্জয়ের কিসের ঘনিষ্ঠতা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।’

মানিকগঞ্জে এমপির’ পৃষ্ঠপোষকতা এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত অনেক নেতা-কর্মীই সেখানে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।’ কিশোর-তরুণদের সমন্বিত অপরাধী গ্যাংও গড়ে উঠেছে তাদেরই পৃষ্ঠপোষক’তায়।

সংঘবদ্ধ এ মাদক চক্রের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবুল বাশার।’ তিনি দুর্জয় এমপি’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিশেষ আনুকূল্যেই বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্যও হয়েছেন আবুল বাশার।’ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে ধাপে ধাপে যুবলীগের নেতৃত্ব পাওয়া সাংগঠনিক দক্ষতায় জনপ্রিয় নেতাদের হটিয়ে দুর্জয় রাতারাতি রাজা-বাশারদের নেতা বানান।’ তাদের হাতেই তুলে দেন জেলা যুবলীগের কর্তৃত্ব।

বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের বিনিময়ে নেতৃত্ব পাওয়া রাজা ও বাশারকে দুই হাতে অর্থ কামিয়ে আনার কর্মকাণ্ডেই নিযুক্ত করা হয়েছে।’ তাদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে জেলার টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জায়গা জমির দখলবাজি থেকে শুরু করে এলাকা পর্যায়ে সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ দেদার মাদক বাণিজ্য।’

দেখতে দেখতেই মাত্র ২/৩ বছরেই মানিকগঞ্জ হয়ে উঠেছে নেশার সাম্রাজ্য।’ স্কুল পড়ুয়াদের হাতেও উঠে এসেছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা।’ নিভৃত গ্রামাঞ্চলেও এখন কয়েক ডজন ইয়াবাসেবীকে নেশার আড্ডায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। মাদক, নেশা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘিরে পারি’বারিক পর্যায়েও ঝগড়াঝাটি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই থাকছে।’

অদৃশ্য ক্ষমতার বলে বলিয়ান আবুল বাশারের তত্বাবধানেই মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগে’র নেতা নাদিম হোসেন, তানভির ফয়সাল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুজ্জমান ও পৌর-ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অলিদ আহমেদ, ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ, শাকিল, যুবলীগের পরিচয় দেওয়া বিকাশ, লিটন এলাকায় পাইকারী হারে ইয়াবা ব্যবসা করে চলছে। মাদক ডিলার হিসেবে পরিচিত এসব নেতা জেলার সর্বত্র ইয়াবার সরবরাহ দিয়ে থাকেন বলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে।’

এদের মধ্যে বিকাশ ও লিটনকে পুলিশ আটক করলেও বাকিরা আছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’ মাদক ডিলারদের সবাই জেলা যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবুল বাশারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।’ মানিকগঞ্জে অবস্থানকালে তারাই এমপি দুর্জয়’কে সার্বক্ষণিক ঘিরে বিচরণ করে থাকে।’

সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন/ ২৫/০৬/২০২০

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

nine − 4 =

বাংলাদেশ একাত্তর