NEWS, অন্যান্য, জনদুর্ভোগ

কলাপাড়ায় তিন ইউনিয়নের সড়কে বেহাল দশা-জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চুপ

%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%9c

কলাপাড়ায় তিন ইউনিয়নের মানুষের দূর্ভোগ যেনো এখন নিত্যসঙ্গী। কলাপাড়ায় তিন ইউনিয়নের সড়কে বেহাল দশা-জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চুপ।

মোঃ পারভেজ, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তিন ইউনিয়নের মানুষের দূর্ভোগ যেনো এখন নিত্যসঙ্গী। মহিপুর ইউনিয়নের মহিপুরবাজার হতে নজিবপুর- কাটাভারানী বেবিবাঁধ সড়ক দিয়ে ও ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের খাপড়াভাঙ্গা-মনসাতলী এবং পার্শ্ববর্তী ধুলাসার ইউনিয়নে তারিকাটা, অনন্তপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ২৫কি.মি. সড়ক চলাচলের সম্পূর্নঅনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় থাকায় প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের এ ভোগান্তি নিরসনে এলাকাবাসী দাবী জানিয়ে সমস্যার সমাধানে উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমন দাবী ভূক্তোভোগী মানুষের। পাকা সড়ক না থাকায় উপজেলার মহিপুর এবং ধুলাসার ও ডাবলুগজ্ঞ তিন ইউনিয়নের কতোগুলো গ্রাম নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষাকাল এলে এ দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করে।

কলাপাড়ায় তিন ইউনিয়নের সড়কে বেহাল দশা-জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চুপ

ভোটের সময় অনেক জনপ্রতিনিধিরা এ এলাকার দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সড়ক  নির্মানে প্রতিশ্রতি দিলেও কখনোই সেই প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন নেই। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসী একটি রাস্তার জন্য বিভিন্ন মহলের কাছে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিপুর বাজার হতেকাটাভারানি বেবিবাঁধ সড়ক দিয়ে মহিপুর, বিপিনপুর, সেরাজপুর, লতিফপুর, নিজ শিববাড়িয়া, ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের কাটাভারানি,কাজিকান্দা, সুরডগি, বরকুতিয়া, খাপড়াভাঙ্গা,মনসাতলী মেহেরপুর ,রসুলপুর,পার্শ্ববর্তী ধুলাসার ইউনিয়নে তারিকাটা ,নয়াকাটা, নয়াকাটা দিওর, বেীলতলী, বেীলতলীপাড়া, মুসলিমপাড়া, বেতকাটা, বেতকাটাপাড়া, খোচাউপাড়া. সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া,অনন্তপাড়াসহ গ্রামের মানুষমহিপুর থানা সদরে যাতায়াত করে থাকে। সড়কটির বিভিন্ন অংশে মাটি ক্ষয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দের। এ সড়কের মহিপুর বাজার হতে প্রায় ২কি.মি. ইট সলিং রাস্তা ছিল। বর্তমানে তার চিহ্ন পর্যন্তনেই।

বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতে কাদামাটিতে একাকার হয়ে সম্পূর্ন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তিনটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের ছ্ত্রা ছাত্রীদের পড়াশুনার জন্য ওই রাস্তা দিয়েমহিপুর কোঅপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ,বিপিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,তারিকাটা দাখিল মাদ্রাসা, ধুলাসার আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, বৌলতলী সৈয়দপুর(নয়াকাটা)সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াকাটা এবতেদায়ী মাদ্রাসা, অনন্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরচাপলী ইসলামীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় যেতে হয়একই রাস্তা দিয়ে।বন্যা নিয়ন্ত্রন বেবিবাধ এ সড়কের অধিকাংশ জায়গায় মাটি ক্ষয়ের ফলে বাধঁ হয়ে পড়েছে অপ্রশস্থ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বেরিবাধের স্লোপে বসবাসকারী মানুষ তাদের প্রয়োজনে বেরিবাঁধ থেকে মাটি কেটে নেয়ার ফলে এ দশায় পরিনত হয়েছে। এছাড়াও বেরিবাঁধ র্নির্মানের পর থেকে কোন সংস্কার কাজ নাহওয়ায় চলাচলের উপযোগীতা হারানোসহ ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে এ বেরিবাঁধ সড়ক। বর্ষা হলে রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়।

সপ্তাহের একদিন বৃহসপতিবার একটি প্রাচীন বড়হাট এ হাট বসে মহীপুরে। দূরদূরন্ত থেকে কৃষিপন্য ও মালামাল মাথায় করে এলাকাবাসীকে মহিপুর হাটে যেতেহয়ও বিক্রি করতে হয়। মোনসাতলী গ্রামের মো.জামাল মৃধা জানান, উপজেলার এ তিনটি ইউনিয়ন একেবারেই অবহেলিত। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তাটি পাকাকরণের কথাবললেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। রাস্তাঘাট না থাকায় এ এলাকায় বর্তমান সরকারের আজো উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ভোট এলে নেতারা বিদ্যুৎ, রাস্তা ও নদীতে সেতু নির্মানের স্বপ্ন  দেখান। ভোট চলে গেলে তারা আর তা মনে রাখেন না। এ এলাকায় কোনো মাইক্রো বাস, ট্রাক, নছিমন, করিমন, আটো  রিকশা, আটো ভ্যান,পায়ে চালিত ভ্যান চলাচলকরতে পারেনা। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানরাস্তা পাকা না হওয়ার ধান ব্যবসায়ীরা ধান ত্রুয় করতে আসেন না।ফলে তাদের ধান কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে তারা ফসলের ন্যায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হন।

এ এলাকার সন্তান সম্ভাবা মা, মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে পার হতে হয় চড়াইউৎরাই। কখনো রাস্তার মধ্যেই বেগ হয়ে সন্তান হয় ও মারা যায় রোগী। স্থানীয় নয়াকাটা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো.নোয়াব আলী হাওলাদার জানান, এলাকার রাস্তাঘাট পাকা ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ব্রিজ নির্মান  না হওয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এ এলাকায়। বিদ্যুৎ ও সড়ক এবং সেতু নির্মিত না হওয়ায় এ এলাকা গুলো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।মুক্তি যোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের একাদ্বশ মানবিক বিভাগের ছ্ত্রা মো.সোবহান বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনসাইকেল ও বই কাঁদে নিয়ে কলেজে যেতে হয়।

বর্ষা মওসুমে কষ্টের কোন শেষ থাকেনা। যদি সরকার এই নয়াকাটা থেকে মহিপুর বাজারপর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মান করতে তাহলেএই লাঘব থেকে রক্ষা পেতাম। ধুলাসার ও ডাবলুগজ্ঞ ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আ: জলিল আকন ও ছালাম শিকদার জানান, ওই রাস্তাটি খুবই জনগুরুত্বপুর্ন ও মানুষের জনস্বার্থে রাস্তাটি পাকা করা উচিত বলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।  মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আ. সালাম আকন জানান, এ সড়কটি পাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।  কলাপাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) আ. মন্নান জানান, রাস্তাটি যখন কয়েক কিলোমিটার তাহলে রাস্তাটি জনগনের জন্য খুবই প্রয়োজন তাহলে পরবর্তীতে রাস্তা পাকার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

4 × two =

বাংলাদেশ একাত্তর