রাজধানী

কর্মজীবী নারী’র উদ্যোগে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে পিআরএসপি’র নেটওয়াকিং সভা অনুষ্ঠিত

%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a7%87-2

সাজিদুর রহমান সজিবঃ
“বিদেশ যাব নিরাপদ ও সঠিকভাবে, সফল হয়ে মর্যাদার সাথে ফিরব দেশে” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে কর্মজীবী নারী’র উদ্যোগে বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় প্রাক-বহির্গমন ও পূণঃএকত্রীকরণ সহায়তা প্রকল্পের (পিআরএসপি) ওয়ার্ড পর্যায়ে নেটওয়াকিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কর্যালয়ে এ নেটওয়াকিং সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, কর্মজীবী নারী’র ট্রেইনিং এন্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার মোঃ হুরমত আলী। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নিয়ে আমারা ভিবিন্ন জায়গায় কাজ করতেছি। আমাদের এ প্রকল্প চালু হয়েছে তিন বছরে জন্য। আমারা এখন ঢাকা ও ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে কাজ করতেছি। ধাপে ধাপে সকল জেলায় আমাদের কার্যক্রম চলবে। সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা সফলভাবে কার্যক্রম চালাতে পারবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জার্মান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের ইলেক্ট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ইন্সট্রাকটর ফিরোজা বেগম, দারুস সালাম থানার এস আই নজরুল ইসলাম ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড সচিব আওলাদ হোসেন।

ফিরোজা বেগম বলেন, বিদেশে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ভাষা শিখে যেতে হবে। ভাষা শিখে না গেলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এক একটি দেশের ভাষা একেকরকম তাই ভাষা শেখার বিকল্প নাই।

তিনি আরো বলেন, ট্রেনিং না করে কখনই বিদেশ যাওয়া উচিত নয়। সরকারি সকল নিয়ম মেনে ট্রেনিং করে বিদেশ যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। সরকারি সার্টিফিকেট ছাড়া কাউকে বিদেশ না যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। যারা বিদেশ যায় তাদের প্রতিমাসে মনিটরিং করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

দারুস সালাম থানার এস আই নজরুল ইসলাম বলেন, বিদেশ যেভাবে যাবে সেভাবে যেন ফিরে আসতে পারে সেভাবে বিদেশ যেতে হবে। যাওয়া আসা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে বিদেশ যেতে হবে। ট্রেনিং ব্যতীত কেউ বিদেশ যাবেন না। সকলকে সচেতন থাকতে হবে। যে দেশে যাবে সে দেশের ভাষা সম্পর্কে দক্ষ হয়ে যেতে হবে তাইলে অনেক বিপদ থেকে এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সোনার বাংলা স্কুলের শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, রাজধানী গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষক মোঃ জহিরুল হক, সৌদি ফেরত নারী শালেহা ও রেনু।

অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন, কর্মজীবী নারী’র পরিচালক রাহেলা রব্বানী। তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক নারী বিদেশ যায় ভালোভাবে, ফিরে আসে খালি হাতে। আমরা এটা চাইনা। আমারা বিদেশ যাবো এবং সঠিকভাবে ফিরে আসবো এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিদেশ যাওয়ার আগে সবকিছু জেনে,শুনে, বুঝে যেতে হবে যাতে কোন সমস্যা না হয়। আমারা কেউ ভাষা না শিখে বিদেশ যাবো না, কোন বিপদে পরবো না।

তিনি আরো বলেন, দেশর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা গতিশীল রাখতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। পুরুষ শুধু একা কাজ করবে এটা কেন? নারীরাও কাজ করবে স্বাবলম্বী হবে। দেশ এগিয়ে যাবে।

রাহেলা বলেন, কর্মজীবী নারী একটি অস্থায়ী সংস্থা, এটা একদিন নাও থাকতে পারে। আর আমাদের সকলকে মনিটরিং করা সম্ভব না। প্রতিটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা যদি স্থায়ীভাবে থাকবে তারা সবসময় মনিটরিং করতে পারবে। তাই আমারা চাই প্রতিটা ওয়ার্ডে কমিশনাররা যেন অভিবাসী শ্রমিকদের মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। যে যে ভিসায় বিদেশ যাবে সে বিষয় পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলে, কর্মজীবী নারী শুধু তথ্যই দেয় না, গবেষণা করে। আমারা গবেষণা করে দেখেছি যে, বিদেশ থেকে অনেকে ফিরে আসলে পরিবার তাকে সহজভাবে মেনে নেয় না। বলে নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু তার পাঠানো টাকা তারা ঠিকি গ্রহণ করেছে। এটা বেশীরভাগ নারীর খেতে হয়ে থাকে। আমাদের এ ধারণা পাল্টাতে হবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কর্মজীবী নারী’র প্রোগ্রাম অফিসার রোনা লায়লা এবং ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শারমিন আক্তার।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু তাহের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অনিবার্য কারণবশত তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন নাই।

Print Friendly, PDF & Email
Comments
Share
bangladesh ekattor

bangladesh ekattor

বাংলাদেশ একাত্তর.কম

Reply your comment

Your email address will not be published. Required fields are marked*

twenty − eight =